

প্যারিসের রাস্তায় কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বাড়ছিল। শনিবারের বিক্ষোভের দিন আমি ও আমার স্ত্রী ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে শহর ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বেলা দুইটায় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে যখন মূল বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন আমরা প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বে ফন্তেনব্লোর জঙ্গলে হাঁটছিলাম। একসময় ফরাসি রাজাদের শরৎকালীন অবকাশযাপন ও শিকারের জায়গা ছিল এই বন।
ট্রেনে ফিরে এসে মেট্রোর দিকে হাঁটার সময় বাতাসে কাঁদানে গ্যাসের গন্ধ পেলাম। আমাদের বাসার কাছের মেট্রোস্টেশনটি বন্ধ ছিল। তাই পাশের একটি স্টেশনে নামলাম। সেখানে সিঁড়ির নিচে একদল কিশোর-কিশোরী জড়ো হয়েছিল। তারা করোনাকালের ব্যবহৃত মুখোশ বিলি করছিল। আমরা প্রত্যেকে একটি করে মুখোশ নিলাম। ঠিক তখনই কাঁদানে গ্যাসের মেঘ ছড়িয়ে পড়ল। চোখ জ্বালা করতে থাকায় সবাই হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আবার ট্রেনের দিকে ছুটল।
বিক্ষোভ এড়ানোর কোনো উপায় ছিল না। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফ্রান্সের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই আন্দোলন শুরু হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তরুণদের মতো ফ্রান্সের অনেক তরুণও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাহীন।